১৩ দিলকুশা বা/এ ঢাকা-১০০০, বাংলাদেশ

“ করবো বীমা গড়বো দেশ , সম্পদের সুরক্ষায় ঝুঁকিমুক্ত বাংলাদেশ”

আমাদের অনুসরণ করুন : বাংলা
আরও / খবর ও ঘটনা

ইষ্টল্যান্ড ইন্স্যুরেন্স পিএলসি.-এর ৪০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন

০৬/১১/২০২৬

দেশের বীমা খাতের প্রথম প্রজন্মের অন্যতম শীর্ষস্থানীয় নন-লাইফ বিমা কোম্পানি, ইষ্টল্যান্ড ইন্স্যুরেন্স পিএলসি. ঢাকার র‍্যাডিসন ব্ল ওয়াটার গার্ডেনের গ্র্যান্ড বলরুমে এক জমকালো আয়োজনের মধ্য দিয়ে তাদের ৪০তম প্রতিষ্ঠাবার্ষিকী উদযাপন করেছে। ১৯৮৬ সালে যাত্রা শুরুর পর থেকে গত চার দশকে কোম্পানিটি অটল আস্থা, আর্থিক স্থিতিশীলতা এবং দেশের বাণিজ্য, শিল্প ও অর্থনীতির ক্ষেত্রে নিবেদিত সেবা প্রদানের মাধ্যমে এই মাইলফলক অর্জন করেছে।

অনুষ্ঠানের শুরুতে ৪০ বছর পূর্তি উপলক্ষে কেক কাটার আয়োজন করা হয়, যেখানে প্রধান অতিথি, বিশেষ অতিথি এবং আমন্ত্রিত বিশিষ্ট অতিথিরা অংশ নেন।

অনুষ্ঠানে সরকারের নীতিনির্ধারক, রাষ্ট্রীয় গুরুত্বপূর্ণ ব্যক্তিবর্গ এবং ব্যবসায়িক নেতৃবৃন্দ উপস্থিত ছিলেন। সম্মানিত অতিথিদের মধ্যে ছিলেন আব্দুল আউয়াল মিন্টু (এমপি), পরিবেশ, বন ও জলবায়ু পরিবর্তন বিষয়ক মন্ত্রী এবং জনপ্রশাসন মন্ত্রণালয় সম্পর্কিত সংসদীয় স্থায়ী কমিটির সভাপতি এবং বাংলাদেশ ইন্সুরেন্স এসোসিয়েশন এর সভাপতি সাঈদ আহমেদ (এমপি)-সহ আরও অনেক বিশিষ্ট অতিথি ও শুভানুধ্যায়ী।

এছাড়া অনুষ্ঠানে দেশের শীর্ষস্থানীয় শিল্পপতি, ব্যাংকার, করপোরেট নির্বাহী, বাংলাদেশ ইন্স্যুরেন্স অ্যাসোসিয়েশন (বিআইএ)-সদস্যবৃন্দ এবং কোম্পানীর সম্মানীত গ্রাহকরা উপস্থিত ছিলেন।

স্বাগত বক্তব্যে কোম্পানির চেয়ারম্যান মাহবুবুর রহমান প্রতিষ্ঠাতা সদস্য এবং প্রয়াত সহকর্মীদের প্রতি গভীর শ্রদ্ধা নিবেদন করেন, যাদের নিষ্ঠা ও কঠোর পরিশ্রম কোম্পানির শক্তিশালী ভিত্তি গড়ে দিয়েছিল। চেয়ারম্যান উল্লেখ করেন যে, জিডিপিতে এই খাতের অবদান মাত্র ০.৩৫%, যেখানে উদীয়মান বাজারগুলোতে এর গড় হার ২.৫%। বাংলাদেশই একমাত্র দেশ যেখানে মোটর বিমা বাধ্যতামূলক নয়। তিনি সরকারের প্রতি আহ্বান জানান যেন ‘সড়ক পরিবহন (সংশোধন) আইন, ২০২৪’ পুনর্বিবেচনা করা হয় এবং নাগরিকদের ঝুঁকির মুখে না ফেলে অবিলম্বে সড়কে নিরাপত্তা নিশ্চিত করা হয়। সাম্প্রতিক সময়ে করোনা ভাইরাস মহামারি, রাশিয়া-ইউক্রেন যুদ্ধ, জুলাই অভ্যুত্থান, ইসরায়েল-ইরান যুদ্ধ এবং শিল্পাঞ্চলে উদ্ভূত বিভিন্ন সংকটের মতো কঠিন সময়ে বেসরকারি খাতকে সুরক্ষা প্রদানে বিমা শিল্প অত্যন্ত গুরুত্বপূর্ণ ভূমিকা পালন করেছে। তিনি সরকারের প্রতি আহ্বান জানান যেন দেশের রপ্তানিমুখী শিল্প খাতে আর কোনো ক্ষয়ক্ষতি রোধ করতে কঠোর পদক্ষেপ নেওয়া হয়। চেয়ারম্যান তার বক্তব্যে আরো জানান যে, প্রতিষ্ঠার শুরু থেকে ইষ্টল্যান্ড ইন্সুরেন্স মোট ১৮৩ কোটি টাকা লভ্যাংশ হিসেবে প্রদান করেছে (যার ক্রমবিকাশ রেকর্ড ৭২১ শতাংশ), ৪৫৩ কোটি টাকার দাবি নিষ্পত্তি করেছে এবং জাতীয় রাজকোষে ৮৮ কোটি টাকার কর প্রদান করেছে।

অতিথিরা তাঁদের বক্তব্যে শিল্প খাতের ঝুঁকি হ্রাস এবং জাতীয় বাণিজ্য ও অর্থনীতির প্রবৃদ্ধিতে সহায়তা করার ক্ষেত্রে ‘ইষ্টল্যান্ড ইন্স্যুরেন্স’-এর চার দশকের অবদানের ভূয়সী প্রশংসা করেন। কোম্পানির দীর্ঘদিনের গ্রাহক ও করপোরেট অংশীদারদের বিশেষ সম্মাননা প্রদান, আকর্ষণীয় সাংস্কৃতিক অনুষ্ঠান ও নৈশভোজ এর মাধ্যমে উক্ত অনুষ্ঠানের সমাপ্তি ঘটে।